এস আই আর-এর দায়িত্বে পেশাজীবীরা

by Vinnokatha

এসআইআর-এর দায়িত্বে
পেশাজীবীরা এসেছে ভিনদেশ থেকে,
এদের উপাধি, চালচলন, পোশাক—সবই অপরিচিত ঠেকে,
তারা নিজেদের মানুষকেই চেনে না,
আর (ঘটনাচক্রে) নিজেদের ভাই-বোনদের,
মা-বাপদের ঘৃণা করে,
যত দ্রুত সম্ভব মুছে ফেলতে চায় তাদের

পেশাজীবীরাই আসল শাসক,
তাদের হাতে অসীম ক্ষমতা—
নির্দেশ, দমন, অপমান,
অস্বীকার, এবং শেষে মুছে ফেলা,
দেশের মানুষদের
মাউসের এক ক্লিকে,
অথবা একটি বোতাম চেপে

পেশাজীবীদের  অসংখ্য স্তর,
মাথা থেকে পা—সব জায়গাতেই তারা,
কৌশলের পর কৌশল ছড়ায়,
জালের পর জাল বোনে দিনে রাতে,
অপ্রয়োজনীয়দের মুছে ফেলতে

দুঃখ এই,
আমাদের মানুষগুলি আগুন খেতে শেখেনি,
ভাসানীর সাহস তাদের নেই।
আর থাকবে কেমন করে?
দাস-মালিকের ছায়ায় জন্ম,
আমরা দুর্বল—
সদা উন্মুখ
পেশাজীবীদের পায়ে লুটিয়ে পড়তে

আমরা বড়াই করি—‘বসুধৈব কুটুম্বকম’,
বিশ্বে আমাদের কোনো প্রাচীর নেই,
আমরা উদার, অহিংস,
কিন্তু দিনরাত এই নামে-ওই নামে
প্রাচীরের পর প্রাচীর তুলছি,
হিংসা আমাদের রক্তে নিরবচ্ছিন্নভাবে  বহমান,
কী ভয়ংকর প্রহসন!
কী যুক্তিহীন বৈপরীত্য
আমাদের দাবির সঙ্গে আমাদের কাজের!

আমাদের দাবি ফাঁপা—খালি কলসির মতো,
পেশাজীবীরা রক্ষকের নামে ভক্ষক।

টিনের ঘরে যাও বা কাঁচের টাওয়ারে—
একই দমবন্ধ,  বাসি বাতাস–
পেশাজীবীদের শীতাতাপে নিয়ন্ত্রিত,

নির্লজ্জ মুখ,
লতা-গুল্ম , আর হামাগুড়ি দেওয়া জীব—
মাথা থেকে পা, সবাই পরস্পরের সাথী।
ডেটা-চালিত আধুনিক ল্যাবে তৈরি,
শাস্তি দিতে, পিষে ফেলতে, নিশ্চিহ্ন করতে
অপ্রয়োজনীয়দের

পেশাজীবীদের হাতে কৌশলের শেষ নেই—
পরিকল্পনা, সিল, কার্যকর করা–
সংখ্যায় হাজার হোক, লক্ষ হোক, বা তারও বেশি,
কিন্তু এদের চিপ একই  সংকেতে চলে,
একই নির্ভুলতায়

পেশাজীবীরাই আমাদের প্রভু,
‘উচ্ছৃঙ্খল বালকের কাছে যেমন মাছি,
দেবতাদের [পেশাজীবীদের] কাছে  আমরা তেমনই;
তারা খেলে, আর আমরা মরি’

পেশাজীবীরা জীবন্ত নজরদারি যন্ত্র,
অপুষ্ট, অর্ধনগ্ন, অশিক্ষিত,
অগণিত মানুষের চলমান পর্যবেক্ষক,
তারা উল্লসিত হয়
মানুষ যদি পথের কুকুরের মতো মরে,
অথচ পথের কুকুরেরও কিছু সুরক্ষা থাকে,

কিন্তু যারা অ আ জানে না,
যারা ঘাম ঝরিয়ে বাঁচে—
তাদের কিছুই নেই,
পথের কুকুরের মত বাঁচার অধিকারও!

*  ব্যতিক্রম মানুষ সব পেশাতেই আছেন। অসহায়, নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকার জন্য উনাদের ধন্যবাদ।

You may also like