আজকের যুগে, যখন ক্ষুদ্র ভিডিও, নৈরাশ্য, সর্বব্যাপী ভোগবাদ এবং অনুভূতির বাজারজাতকরণের মধ্যে মানবতা হারিয়ে যাচ্ছে, তখন ভাসানীকে স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি—আমাদেরকে আদর্শ, সত্য, এবং শ্রমজীবী মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জীবনের পথে পরিচালিত করার জন্য
মওলানা ভাসানী
-
-
বিতর্কিত ও অবিসংবাদিত, নন্দিত ও নিন্দিত এই মহান রাজনীতিবিদের জীবন ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা আজও শিক্ষিত সমাজের একটি বড় অংশের মধ্যে অস্পষ্ট থেকে গেছে। প্রয়োজনমতো কেউ কখনো তাঁর প্রশংসা করে, কেউ সমালোচনা—এমনকি নিন্দাও।
-
মহাত্মা গান্ধী ১৮৯৩ সালে আইনজীবী হিসেবে সর্বপ্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পা রাখেন এবং ১৯১৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর সেদেশে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন। অপরদিকে মওলানা ভাসানী ১৮৯৭ সাল থেকে (সৈয়দ আবুল মকসুদের মতে ১৯০৪ সাল থেকে) ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় পাঁচ দশক আসামের নিপিড়িত বাঙালিদের অধিকার রক্ষায় বিশেষভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেন। আসামের ‘লাইন প্রথা’ ও ‘বাঙ্গাল খেদা’ নামক বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তিনি প্রায় একা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। দু’জনেই নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ের বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে রাজনৈতিক জীবনের গোড়াপত্তন করেন। কিন্তু শ্রেণিচেতনার বৈপরিত্য ও সাধারণ মানুষের জন্য অতি সাধারণ বেশ—ভুষা সম্পন্ন একজন মজলুম জননেতা বলে মওলানা ভাসানীর এই বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন ইতিহাসের প্রাণপ্রদিপের আলোয় স্থান পায় নাই। যেমনটি মওলানা ভাসানীর অনুরোধ সত্ত্বেও সেদিন মহাত্মা গান্ধী কিংবা জিন্নাহ সাহেবেরা আসামের নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান নাই। উপমহাদেশের রাজনীতিতে সেই বৈপ্যরিত্ত্বের রাজনীতি এখন আরও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই গণমানুষের রাজনীতি আর ইতিহাসের প্রয়োজনেই মওলানা ভাসানী বারবার ফিরে আসে। যেখানে গণমানুষ ও মওলানা ভাসানীর আসাম জীবন একাকার।
