খিদের রাত

রাস্তা অন্ধকার। দূরে শেয়াল ডাকছে। বৃষ্টি থেমেছে কিছুক্ষন হলো। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে চারটি বাচ্চাকে নিয়ে অপেক্ষা করছে এক মা কুকুর। কোলাহল কমেছে কিছুক্ষণ হলো। পাকা বাড়িগুলোর আলো একে একে নিভে যাচ্ছে। মা কুকুরটি ব্যস্ত চোখে চারদিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করল। খিদের জ্বালায় বাচ্চাগুলোর মুখ শুকিয়ে এসেছে।

ডাস্টবিনের পাশে, হোটেলের পেছনে, চায়ের দোকানের সামনে—যেখানে একটু খাবারের আশা, সেখানেই সে ঘুরে বেড়াল। কিন্তু আজ যেন শহরটাও খালি। কোথাও একটুকরো ভাত নেই, নেই শুকনো রুটির টুকরোও।

বাচ্চাগুলো ক্ষীণ স্বরে কেঁদে উঠতেই মা কুকুরটি আবার তাদের কাছে ফিরে এল। নিজের জিভের স্পর্শে একে একে তাদের আদর করে শান্ত করার চেষ্টা করল। তার নিজের পেটও তখন খিদের আগুনে জ্বলছে, তবু সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সে সেই যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখল।

একটু দূরেই একটা ডাস্টবিন লক্ষ্য করে মা কুকুরটি এগিয়ে যায়। ডাস্টবিনের মুখ নাগালের বাইরে হওয়ায় কিছু করতে পারছিল না মা কুকুরটি। অবশেষে ঝাঁপিয়ে ভিতরে ঢুকে যায়। অন্ধকার আর পচা কুমড়ো গন্ধে সেভাবে কিছুই খাওয়ার পেল না। হতাশ হয়ে পুনরায় ফিরে এলো বাচ্চাগুলোর কাছে।

ঠিক তখনই বাসস্ট্যান্ডে শেষ বাস এসে দাঁড়ালো। ছুটে গেল মা কুকুরটি। একজন লোক জানালা দিয়ে ফেলে দিল অর্ধেক রুটির টুকরো। মা কুকুরটি তা মুখে নিয়েছে বাচ্চাদের লক্ষ্য করে ছুটি আসছে। এমন সময় বালির ট্রাকের তলায় চাপা পড়ে মা কুকুরটি। ট্রাকটি চলে যায় দূর শহরের দিকে। নেমে আসে নিস্তব্ধতা।

কাঁচা মাংস ভিজিয়ে এগিয়ে চলে রক্তের স্রোত। তারপর বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় রাস্তা। শুধু শহরের বুকে থেকে যায় মা-হারা চারটি কুকুর শাবক।

You may also like