ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষজন এখনো অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেনি। ভারতবর্ষের অধিকাংশ সম্পদের মালিকানা উচ্চবর্ণ ও উচ্চবিত্ত লোকেদের হাতে। বেসরকারিকরণ হলে তাদের কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু নিম্ন বিত্তের দলিত-সংখ্যালঘু-আদিবাসী মানুষের কাছে সম্পদের মালিকানা না থাকায় তারা পয়সা দিয়ে শিক্ষা কিনতে পারবে না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেসরকারিকরণ থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই? যাদের টাকা রয়েছে, তারাই একমাত্র আধুনিক চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছে, বাকিরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। ফলে যে শিক্ষা তাদের একদিন শতশত বছরের গোলামির রাস্তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখিয়েছিল, সেই শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তারা আবার সেই গোলামি অর্থাৎ বর্ণাশ্রমের যুগেই ফিরে যাবে।
মতামত
-
-
সন্তোষপুরের এই উচ্ছেদ শুধু একটি গ্রামের বঞ্চনার গল্প নয়, এটি প্রশ্ন তোলে মানবাধিকার, সরকারি নীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে। কেন একটি গ্রামের মানুষকে তাদের জমি, ঘর, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হলো? এপিডিসিএল-এর জন্য জমি বরাদ্দের নামে কি এই মানুষদের জীবন ধ্বংস করা ন্যায়সঙ্গত?
-
যুগের সাথে চন্দ্রযানের প্রযুক্তি আবিষ্কার হলেও কেন আবিষ্কার হল না ধর্ষণের প্রতিষেধক। মুম্বাই এর অরুণা শানবাগ থেকে দিল্লির জ্যোতি, তারপর নিভে গেল কলকাতার তরুণী, এত পর্যন্ত সময়ে কিসের এত অপেক্ষা? ব্যবস্থার পক্ষপাত যদি নারীর শরীর সর্বস্বতাতেই হয় তবে পর্দাপ্রথা ও গৃহবন্দি জীবন তথাকথিত আধুনিক জীবনের চেয়ে কী বেশি উৎকৃষ্ট ছিল না?
-
“There is no friend as loyal as a book “– Ernest Hemingway একটি বই, একটি পেন, একটি শিশু এবং একজন…
-
শ্রেণীর সঙ্গে বর্ণ অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। তাই শ্রেণী ব্যবস্থাকে আঘাত না করে অর্থাৎ উৎপাদনের বিষয় ও উপকরণের মালিকানা তথাকথিত নিম্নবর্ণের মানুষের হাতে হস্তান্তরিত না হলে এবং সাথে সাথে শোষিত নিম্নবর্ণের মানুষ পরিপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রাপ্ত না হলে বর্ণ-ব্যবস্থা নির্মূল করা অসম্ভব বিষয়।
-
চাষিরাও জোর গলায় প্রতিবাদ জানাতে পারেন না যে, তোদের ঝাঁ-চকচকে অন্তঃসারশূন্য সভ্যতা আমাদের জন্যই এত রঙিন। আমরা অন্ন তুলে দিলে তবেই তোদের মুখে উঠবে, নয়তো গেরস্তের আঙিনায় খাবারের আশায় লেজগুটিয়ে বসে থাকা সারমেয়টি হয়ে বসে থাকতে হবে তোদেরকে। এসব বলে ক্ষোভে ফেটে পড়তে পারেন না তারা। কারণ পেটে ভাত নেই। গলায় আওয়াজ নেই। রোদে পোড়া, ঘামে ভেজা, ক্ষুধার্ত দুর্বল শরীরে ক্ষয়।
-
কিশোরগঞ্জ এলাকার আরেকজন মানুষ কেউ কেউ শুনেছেন, তিনি হারিয়ে গিয়েছেন, রেবতী মোহন বর্মণ। তিনি ছিলেন কমিউনিস্ট নেতা। তিনি আর এই নীরদ সি চৌধুরী। এরা পাশাপাশি গ্রামের মানুষ, দুজনের বাবা ওকালতি করতেন, দুজনেরই অবস্থান বেশ মধ্যবিত্ত। কিন্তু রেবতী মোহন বর্মণের নাম তো আমরা শুনি না। কারণ, রেবতী মোহন বর্মণকে তো আমরা আধুনিকও বলি না, বলি না এজন্য যে তিনি কমিউনিস্ট ছিলেন।
-
কে এম রাকিব সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ দিয়ে লেখাটা শুরু করা ভালো।প্রিয় পাঠক, এইমাত্র ক্লিক করে বর্তমান যে লেখাটিতে আপনি ঢুকে পড়লেন,…
-
এই চাকরিহারাদের অসহায়তাকে বিদ্রূপ করে, বেকারদের দুঃখমোচনের মেকি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট রাজনীতির খেলায় জেতার অঙ্ক কষার আগে মানুষের বোধ-বুদ্ধি ও সচেতনতার কাছেও কিন্তু জবাবদিহি করতেই হবে। সচেতন মানুষ এতদিনে নিশ্চয় ভোট রাজনীতির পাটিগণিতের শেষ উত্তরটা জেনে গেছে, নির্বাচন আসলে একটা সুবিধাবাদকে সরাতে গিয়ে আর একটা সুবিধাবাদেরই জন্ম দেওয়া।
-
শ্রমিক-কৃষকদের মেহনত ছাড়া কোনো সমাজ চলতেই পারে না। ফলে শ্রমিক বা কৃষক হিসেবে তাদের গর্ববোধ করাই উচিত। শুধু বড়লোকশ্রেণির বাবু লোকেরা বা “ভদ্রলোকেরা” মেহনতি জনগণকে “চাষা” বা “লেবার-ক্লাস”, “কুলি/মজুর” এসব বলে ব্যঙ্গ করে। অথচ তারা কোনো খাদ্য- বস্ত্র-বাসস্থান কিছুই উৎপাদন করতে পারে না।
